কোম্পানিটির অনুমোদিত শেয়ার মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। আগে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১৫০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত মোট অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মূলধন বৃদ্ধির পর এখন ব্যাংকটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত অনুমোদিত মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকায়।
অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির বিষয়টি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) অনুমোদন ও প্রত্যয়ন করেছে। এছাড়া অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক এশিয়া পিএলসির সংঘস্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন) ধারা-৫ ও সংঘবিধির (আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন) ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে এবং সেগুলো আরজেএসসি কর্তৃক অনুমোদন ও প্রত্যয়ন করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৯২ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংক এশিয়ার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৪২ পয়সায়।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ২৮ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৫ টাকা ২২ পয়সায়।
২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৪১ পয়সায়।
ব্যাংক এশিয়ার সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যায়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।
২০০৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন ৩ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ১২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৯ কোটি ১৫ লাখ ৯ হাজার ৮৩৭। এর ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮ দশমিক ৮০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।